ভারতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের

রিপোর্টার লাভলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২১ অক্টোবর ২০২৬

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ, গণগ্রেপ্তার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের নেতৃত্বে চলা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। বিক্ষোভকারীদের আহত হওয়ার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হওয়া সত্ত্বেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জসহ বিভিন্ন ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাজারো মানুষকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তাঁরা অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ, নির্বিচারে সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বায়োমেট্রিক তথ্যসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিক্ষোভের কারণ কী?

চলতি মাসে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের অন্যতম কারণ ভোটার তালিকা সংশোধন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ফলে বহু যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, এর প্রভাব দরিদ্র, গৃহহীন ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর অসমভাবে পড়তে পারে।

তবে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিকবার তালিকাভুক্ত এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধন করা হচ্ছে। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে আপিলের সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত দাবি

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিক্ষোভ চলাকালে আহত হওয়া, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করেন এবং সরাসরি জাতিসংঘের পক্ষে বক্তব্য দেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *