ফারুক মিয়া,দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জ্বর, ডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে শিশু ও তাদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্ত শিশুরাও চিকিৎসা নিতে আসছে। এতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড এবং বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বাড়ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল। বর্তমানে এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. আহসান হাবিব।
এদিকে সারা দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জে শিশু ও বয়স্ক রুগীদের মধ্যে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঠেকাতে হাসপাতালের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ পানি পান করানো, খাবারের আগে ও পরে হাত পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিশু রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা, ওষুধ, শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা পর্যাপ্ত আছে কি না-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।