শিবিরপন্থী পেজে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে জড়িয়ে এআইনির্ভর ভুয়া ভিডিও প্রচারের অভিযোগ

কামাল উদ্দিন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার নতুন অস্ত্র হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের সর্বশেষ শিকার হয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাকে জড়িয়ে অশালীন ও আপত্তিকর ভুয়া ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘শিবির মিডিয়া সেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে।

প্রচারিত ভিডিওগুলোর একাধিক অংশ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অন্য এক ব্যক্তির শরীরের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর মুখমণ্ডল কৃত্রিমভাবে সংযোজন করা হয়েছে। আবার কয়েকটি দৃশ্যে ঠোঁটের নড়াচড়া, মুখের অভিব্যক্তি ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়। প্রযুক্তিগত কৌশলে নির্মিত এসব ভিডিও সাধারণ দর্শকের কাছে বাস্তব বলে প্রতীয়মান হওয়ার মতো করেই তৈরি করা হয়েছে।

পেজটির পূর্ববর্তী প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পোস্টই জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের পক্ষে প্রচারণামূলক। যদিও ‘শিবির মিডিয়া সেল’ ছাত্রশিবিরের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম নয়, তবুও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত কনটেন্টের ধরন বিবেচনায় এটিকে ‘শিবিরপন্থী’ বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

সম্প্রতি জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে দেওয়া তার বক্তব্যের পর জামায়াত-শিবিরের কিছু কর্মী তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে আসা একাধিক অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অডিওগুলোতে এক ব্যক্তিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অর্থ দাবি করতে শোনা যায় বলে জানা গেছে। তবে এসব অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ভুয়া ছবি, অডিও ও ভিডিও তৈরি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ হয়ে উঠেছে। এর সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা জনপরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন কোনো কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *