রাজীব বাস সার্ভিস নিরাপদ করতে পরামর্শ সভা, ১৩ নির্দেশনা

মো. আলমগীর, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে রাজীব বাস সার্ভিস উন্নত, আধুনিক ও নিরাপদ করতে মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন নেতাদের মধ্যে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ১৩ টি নির্দেশনার প্রস্তাব দিয়েছে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শহিদুল হক খান দুলালের সভাপতিত্বে পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আমাদের সড়ক যোগাযোগের ওপর আমরা অনেকটা নির্ভরশীল বেশি। কিন্তু অন্যান্য জেলার চেয়ে আমাদের পরিবহনের গাড়ির মান কিন্তু অনেক নিচু। শেরপুরে যে সমস্ত গাড়ি চলে তাদের গাড়ির মান অনেক স্ট্যান্ডার্ড। ওই তুলনায় আমাদের গাড়িগুলো পুরাতন, স্ট্যান্ডার্ডের দিক থেকে অনেক নিচু মানের গাড়ি।

তিনি আরও বলেন, আপনাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল যে, পুরাতন গাড়িগুলো সরিয়ে নতুন গাড়ির ব্যবস্থা করার জন্য। একটা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে গাড়িগুলোকে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য। কিন্তু আসলে আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা বোধহয় সেই পর্যায়ে যেতে পারি নাই। আমি অনুরোধ করবো যে, আপনার পরিবহন সমৃদ্ধ করতে চাইলে সুন্দর করতে চাইলে বিভিন্ন দিক থেকেই আমাদেরকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানে যারা মালিক আছেন তাদের আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা দিয়ে গাড়িটাকে রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করতে হবে। যারা ড্রাইভার বা হেল্পার আছেন গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন।

জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (৮২২) এর সদস্য সাদিকুর রহমান হীরার সঞ্চালনায় পরামর্শ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শুভ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব, বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক মঞ্জিল হোসেন, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (৮২২) এর আহবায়ক মোছাদ্দেক আলী মোহন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহবায়ক হারুন অর রশিদ, সদস্য আনোয়ার হোসেন শাহীন, মোছাব্বির আহাম্মেদ জুয়েল প্রমুখ।

পরামর্শ সভায় রাজীব বাসের প্রতি ১৩টি নির্দেশনার প্রস্তাব পেশ করেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শুভ। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে।

১) রাজিব সম্পূর্ণ সিটিং সার্ভিস হিসেবে পরিচালিত হবে। কোনো প্রকার দাঁড়ানো যাত্রী বহন করতে পারবে না।

২) ঢাকা মহাখালী বাস টার্মিনাল হতে গাজীপুর-রাজেন্দ্রপুর কাউন্টার পর্যন্ত ১.৫০ মিনিট সময় নির্ধারণ। ওই সময়ের মধ্যে ঢাকা মহাখালী টার্মিনাল হতে গাজীপুর-রাজেন্দ্রপুর কাউন্টার পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।

৩) জামালপুর রাজীব কাউন্টার হতে ভাবকীর মোড় মুক্তাগাছা রাজীব কাউন্টার পর্যন্ত ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে পৌঁছাইতে হবে।

৪) ১ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে জিপিএস ট্র্যাকার বা সার্ভিসের মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিপিএস ট্র্যাকারসহ দুটো ক্যামেরা গাড়িতে স্থাপন করতে হবে।

৫) রাজীব গাড়ির ড্রাইভারদের ভারী লাইসেন্স থাকতে হবে। ড্রাইভার ছাড়া কাউন্টার থেকে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না। কোন গাড়ির ড্রাইভার পরিবর্তন হলে অবশ্যই মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নকে অবগত করতে হবে।

৬) যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোন যাত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না।

৭) ২০১৬ সালের আগের গাড়িগুলো সার্ভিস থেকে সরানো এবং ২০১৬ সালের পরের গাড়িতে সার্ভিস প্রদান।

৮) ফেরিঘাটের পর থেকে নান্দিনা পর্যন্ত কিছু জায়গায় রাস্তা খারাপ রয়েছে। বাস নিয়ে ঘাট থেকে রাস্তায় ওঠার সময় অবশ্যই ট্রাফিকের রাস্তার সামনে দাঁড় করাতে হবে।

৯) আগের মিটিংয়ে ১৫ দিনের মধ্যে গাড়ির ডেকোরেশন পরিবর্তন, গ্লাস পরিবর্তন, সিট কাভার পরিবর্তনসহ যাবতীয় কাজের কথা বলা হয়েছিল, এখনও তা হয়নি। এগুলো অতিদ্রুত পরিবর্তন করতে হবে।

১০) গাড়ি ঠিক রাখা মালিকদের কাজ কিন্তু সার্ভিস ঠিক রাখা শ্রমিক বা স্টাফ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের কাজ।

১১) রাজীবের টিকিট পরিবর্তন হবে এবং যাত্রীর মালামালের সুরক্ষার জন্য টোকেন ব্যবহারে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১২) সিটিং সার্ভিস হিসেবে টাইম ঠিক রেখে গাড়িগুলো চলতে হবে।

১৩) গাড়ি চালানো অবস্থায় গাড়ির ড্রাইভার কোনভাবেই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না।

পরামর্শ সভায় বাস-মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *