ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষা ব্যয় ও জীবনযাত্রার সংকটে উত্তাল রাজপথ

রিপোর্টার লাভলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা খাতে অর্থায়ন কমানো, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের জেরে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমেছেন। কিছু স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও ঘটেছে। এতে সরকারগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। সেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ অংশ নেন। কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

বেলজিয়ামে শিক্ষা ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ
বেলজিয়ামের লিয়েজ ও ব্রাসেলসে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফি বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার আশঙ্কায় বিক্ষোভ করেছেন।

৭ অক্টোবর লিয়েজে বিক্ষোভের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ব্রাসেলসেও বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকট
শিক্ষার দাবির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং কম মজুরি নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।

  • পর্তুগাল: বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।
  • ইতালি: মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।
  • ফ্রান্স: শিক্ষার মান ও অর্থায়নের দাবির সঙ্গে বৃহত্তর জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত অসন্তোষ যুক্ত হয়েছে।

কেন বাড়ছে তরুণদের ক্ষোভ?
বিশ্লেষকদের মতে, এ আন্দোলনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতি তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। পড়াশোনা শেষ করার পরও স্থিতিশীল জীবন গড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে ইউরোপের সব দেশের আন্দোলন একই সংগঠনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে না। দেশভেদে দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও শিক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে।

সরকারগুলোর সামনে চ্যালেঞ্জ
বিক্ষোভের মুখে কয়েকটি সরকার শিক্ষা ও জনসেবার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং বাজেট ঘাটতির কারণে এসব দাবি পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ আন্দোলনের গতিপথ এবং জনসমর্থন নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভ কেবল শিক্ষা খাতের সংকট নয়; এটি জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগেরও প্রতিফলন। সরকারগুলো এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *