​ইসলামপুরে নদীভাঙনে নিঃস্ব বিধবা আছিয়া জরাজীর্ণ ঘরে কাটছে মানবেতর জীবন

​রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুর প্রতিনিধি

একসময় ছিল সাজানো সংসার,ছিল নিজের এক চিলতে মাথা গোঁজার ঠাঁই। কিন্তু প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদের সর্বগ্রাসী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে সেই সুখের দিন আজ শুধুই অতীত স্মৃতি।

জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দরিয়াবাদ (ফকিরপাড়া) গ্রামের মৃত আনোয়ার ইসলামের স্ত্রী আছিয়া বেগমের (৬৫) করুণ জীবনসংগ্রামের কথা। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে জরাজীর্ণ একটি কুঁড়েঘরে চরম দুর্ভোগ ও সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে অসহায় এই বিধবার। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর থেকেই দারিদ্র্য ও অভাব-অনটন আছিয়া বেগমের নিত্যসঙ্গী।

এর ওপর বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা তাঁর জীবনকে করে তুলেছে আরও বিষাদময়। কোমরের হাড় ক্ষয়জনিত তীব্র ব্যথায় তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। চোখে ছানি পড়ায় দিন দিন দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলছেন। ফলে দৈনন্দিন বেঁচে থাকার ন্যূনতম কাজগুলো করাও এখন তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ঘরের ছাদ গলে পড়া অনিশ্চয়তা আর দৈন্যের মধ্যেই কাটছে তাঁর প্রহর।

​আছিয়া বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও তাঁদের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। দিন এনে দিন খাওয়া সন্তানদের পক্ষে মায়ের চিকিৎসা তো দূরের কথা দুবেলা খাবারের জোগান দেওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দারিদ্র্য, ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা এবং শারীরিক অসুস্থতা-সব মিলিয়ে এখন চরম সংকটের মুখে এই প্রবীণ বিধবা।

​এলাকাবাসী জানান,নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও চরম অসচ্ছল মানুষের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আছিয়া বেগম এখনও তা থেকে বঞ্চিত। অবিলম্বে তাঁর স্থায়ী পুনর্বাসন ও চিকিৎসায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।

​স্বামীহারা,দৃষ্টিহীন ও মারাত্মক অসুস্থ এই বিধবার আকুল আবেদন-জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি যেন একটি নিরাপদ আশ্রয়, চোখের চিকিৎসা ও দুবেলা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পান। আছিয়া বেগমের এই মানবিক সংকট কাটাতে তাঁর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন,বিত্তবান ব্যক্তি,প্রবাসী ও সমাজসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি জরুরি আর্থিক সহায়তার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের বলেন,নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তাঁর জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *