রিপোর্টার লাভলু

বিশ্ব ডিম দিবস কেন পালন করা হয়?
বিশ্ব ডিম দিবস (World Egg Day) প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার পালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ডিমের পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা, বহুমুখী ব্যবহার এবং মানুষের খাদ্য ও পুষ্টিতে এর গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করা।
কখন থেকে শুরু?
বিশ্ব ডিম দিবসের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়।
সেই বছর International Egg Commission (IEC)-এর একটি সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস পালন করা হবে। ১৯৯৬ সালেই প্রথম বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হয়।
ডিমকে কেন্দ্র করে আলাদা দিবস কেন?
ডিমকে বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর ও বহুমুখী খাবার হিসেবে তুলে ধরাই এই দিবসের অন্যতম লক্ষ্য। ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। তাই শিশুদের বৃদ্ধি, প্রাপ্তবয়স্কদের পুষ্টি এবং সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থায় ডিমের ভূমিকা সম্পর্কে মানুষকে জানানো হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও সহজে রান্না করা যায়। ফলে বিভিন্ন আয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব ডিম দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য
১. ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে মানুষকে জানানো।
২. সুষম খাদ্যে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরা বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও পরিবারের খাদ্যতালিকায় ডিমের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন করা।
৩. ডিমের সহজলভ্যতা ও সামর্থ্য তুলে ধরা অন্যান্য অনেক প্রাণিজ প্রোটিনের তুলনায় ডিম সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য একটি খাদ্য।
৪. পোলট্রি খাত ও খামারিদের ভূমিকা তুলে ধরা ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, খামারি, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অবদান তুলে ধরা।
৫. বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তায় ডিমের ভূমিকা তুলে ধরা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য পুষ্টিকর খাবারের জোগানে ডিম কীভাবে অবদান রাখতে পারে, সেটিও আলোচনার অংশ।
৬. ডিম সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা পুষ্টি, খাদ্যাভ্যাস ও ডিম খাওয়া নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরা।
কীভাবে দিবসটি পালন করা হয়?
ডিম ও পুষ্টি বিষয়ক সেমিনার
স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
রান্নার প্রতিযোগিতা
ডিমের খাবার প্রদর্শনী
বিনামূল্যে বা কম দামে ডিম বিতরণ
শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা
কৃষক ও পোলট্রি খামারিদের নিয়ে অনুষ্ঠান
বিশ্ব ডিম দিবসের কার্যক্রম সময়ের সঙ্গে অনেক বড় হয়েছে। World Egg Organisation-এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১০০টিরও বেশি দেশে বিভিন্নভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে।
ডিম ও পুষ্টি বিষয়ক সেমিনার
স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
রান্নার প্রতিযোগিতা
ডিমের খাবার প্রদর্শনী
বিনামূল্যে বা কম দামে ডিম বিতরণ
শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা
কৃষক ও পোলট্রি খামারিদের নিয়ে অনুষ্ঠান❌
বিশ্ব ডিম দিবসের কার্যক্রম সময়ের সঙ্গে অনেক বড় হয়েছে। World Egg Organisation-এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১০০টিরও বেশি দেশে বিভিন্নভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে।
বাংলাদেশে বিশ্ব ডিম দিবস
বাংলাদেশও বিশ্ব ডিম দিবস পালনে অংশগ্রহণ করে। ২০১৭ সালের বিশ্ব ডিম দিবসের আন্তর্জাতিক উদযাপনের নথিতে বাংলাদেশের কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। সে সময় বাংলাদেশে টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, “Feel the Egg” মানববন্ধন/হিউম্যান চেইন, সিদ্ধ ডিম বিতরণ এবং ভোক্তাদের জন্য কম দামে ডিম বিক্রির মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগে Department of Livestock Services এবং Bangladesh Poultry Industries Central Committee (BPICC) যুক্ত ছিল।
২০২৬ সালে বিশ্ব ডিম দিবস কবে?
২০২৬ সালের বিশ্ব ডিম দিবস হলো শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৬ সালে বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে। World Egg Organisation-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালে দিবসটি তার ৩০তম বার্ষিকীতে পৌঁছেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনও বলে রাখি: বিশ্ব ডিম দিবস জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়; এটি International Egg Commission-এর উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বৈশ্বিক সচেতনতামূলক দিবস। পরে এটি বিশ্বের বহু দেশে ব্যাপকভাবে পালিত হতে থাকে।