জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক আলী আহমেদ এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ 

রোকনুজ্জামান সবুজ ,জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি দীর্ঘ ১১বৎসর যাবত একই কর্মস্থল অতিবাহিত করার সুবাধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মনে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়,উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদ তিনি নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর থেকে গত ১৭ জুলাই ২০১৬ইং  বদলী হয়ে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে একই কর্মস্থলে চাকুরির সুবাদে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দিনের পর দিন অনিয়ম দূর্নীতি করে যাচ্ছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অভিযোগের ভিত্তিতে আরো জানাযায়,বিগত দিনে উচ্চমান সহকারী আলী আহমেদ এবং সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন খানকে জড়িয়ে নিয়োগ,পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যেসহ উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে বিভিন্ন ডজনখানে জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ পায়। সে সময় তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন খানকে অন্যত্র বদলী করা হলেও দুর্নীতিবাজ উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদ রয়েছেন বহাল তরিয়তে। যেন দেখার কেউ নেই। এলাকার সুধী মহল জানতে চায় তার খুঁটির জোর কোথায়?

আবারও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে তিনি জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি দেয়ার নামে আর্থিক লেনদেন করে যাচ্ছেন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদ। 

এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের এক শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জানাযায়,তিনি বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি অফিস কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে তাদের মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগি শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন,তার বিরুদ্ধে বিগত দিনে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ কারণে জেলার শিক্ষকগণ তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকি সরকারি/বেসরকারি একাধিক ভুক্তভোগি প্রাথমিক শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন,বিভিন্ন সময় জেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষকরা কাজে গেলে প্রথমে তার ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ যে কোন কাজ করতে হলে মুলত তার মাধ্যমে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়। তাই তার পরামর্শ ব্যতিত কোন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই সুবাধে তিনি যা আবদার করে থাকেন,তা’পুরণ কারা ছাড়া কাজ বাস্তবায়ন করা কোন মতেই সম্ভব নয়। এ কারণে তার অবৈধ চাওয়া পাওয়া আগেই মিটিয়ে দিতে হয় বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমনকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কোন অভিযোগ করছেন কি’না এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, বিগত দিনে সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ,অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তকারি কর্মকর্তাগণ অধিনস্থ্য ভূক্তভোগি শিক্ষকদের বক্তব্য শুনে সত্যতা পেয়ে শুধু জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলী করেছিলেন। কিন্তু উচ্চমান সহকারী আলী আহমেদ তিনি বহাল তরিয়তে থাকার কারণে পরবর্তিতে স্বাক্ষ্যদানকারি শিক্ষকগণ বিভিন্ন সময় কাজে এলে তাদের চরম নাজেহাল হতে হয়েছে। তাই কেউ তার বিরোদ্ধে অভিযোগ দিতে সাহস পান না। তাঁর খূঁটির জোড়ের মূল কারণ কি? এমন প্রশ্ন জানতে চাইলে ভূক্তভোগি শিক্ষকগণ বলেন,দীর্ঘদিন একই জায়গায় চাকরি করার কারণে এমনকি অফিসের সন্নিকটে তার শ্বশুরালয় ২০১৮সালে নিজেবাড়ি করায় স্থানীয় স্বজনদের পেশি শক্তির প্রভাবে তিনি অফিসে চরম প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবী এসব কারণ ক্ষতিয়ে দেখে জরুরি ভিত্তিতে তাকে অন্যত্র বদলীর প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাযায়,উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদ এর স্থায়ী ঠিকানা শেরপুর জেলার সদর উপজেলার হরিণধরা। কিন্তু তার শ্বশুরালয় জামালপুর জেলা শিক্ষা অফিসের অদূরে পৌর শহরে। তাই তিনি স্থানীয় স্বজনদের প্রভাব বিস্তর করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সিন্দিকেট করে নিয়োগ,পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যে করাসহ অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপারজন করেন এমনকি ২০১৮ সালে জামালপুর পৌর শহরে  প্রায় ৮ শতাংশ জমি কিনে সেখানে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে,উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক আলী আহমেদের কাজে জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘ ১১ বৎসর একই স্থানে চাকরির সত্যতা স্বীকার করলেও অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয় অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে  নিজেকে এড়িয়ে দায়সারা ভাবে বলেন আমি কি বক্তব্য দিবো। 

পরে তিনি বলেন,আপনারা দেখেন উনার বিরুদ্ধে কি আছে। আমার কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে ১১ বছর ধরে তিনি একই অফিসে আছেন এইটা সত্য। আর যদি কেউ কারো কথা বলে টাকা নিয়ে থাকে,তাহলে সেই দায় ভার তার নিজের। আমি টাকার বিষয় নিয়ে তাকে কিছু বলিনি। আপনারা তা’যাচাই করে দেখতে পারেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *