ফারুক মিয়া,দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট ও মেডিসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় রোগ নির্ণয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ানরা। এতে অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে থাকা যন্ত্রপাতি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট, কিট ও অন্যান্য উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প পরিমাণে এসব উপকরণ সরবরাহ পাওয়ায় অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
টেকনিশিয়ানরা বলেন, প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট ও পরীক্ষার উপকরণ নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হলে বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আরও বেশি রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে রোগীদের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসতে পারে।
তাঁদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো গেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ও কমবে। পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে চিকিৎসকেরাও রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে সুবিধা পাবেন।
এদিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের পদ ও কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যার মধ্যেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। ফলে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক কর্মরত থাকলে রোগীদের অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যাওয়ার প্রবণতাও কমবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতে এর প্রধান হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিবের নাম রয়েছে।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের দাবি, দেওয়ানগঞ্জের মতো সীমান্তবর্তী ও বৃহৎ এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের জনবল, চিকিৎসক, প্যাথলজি বিভাগের প্রয়োজনীয় কিট-রিএজেন্ট ও অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। এতে সরকারি হাসপাতালে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেলা সদরসহ দূরের হাসপাতালে যাওয়ার চাপও কমতে পারে।
প্যাথলজি বিভাগের সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানরা বলেন, “প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলে এখানে আরও বেশি ধরনের পরীক্ষা করা সম্ভব। হাসপাতালের বিদ্যমান যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”
তাঁরা আরও বলেন, বিমান ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট এমপি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে এবং হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ ও চিকিৎসক সংকটের দিকে নজর দিলে স্থানীয় মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন, প্যাথলজি পরীক্ষার কিট-রিএজেন্ট ও অন্যান্য উপকরণের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সক্ষমতা অনুযায়ী সব ধরনের পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।