অভিযোগের পাহাড় নিয়ে আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইউনুস বহাল তবিয়াতে।

ইত্তিজা মনির, বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, জাল-জালিয়াতি, বিএড স্কেল ও টাইম স্কেল পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য এবং শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করে দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে ওয়াজ-নসিহতের নামে অর্থ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জমা রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, টাইম স্কেলের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক মোঃ চাঁদ মিয়ার স্বাক্ষরিত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক নোটিশে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদারের (ইনডেক্স: B373365) বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হওয়ায় ২৪ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অফিস কক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়।

নোটিশে অধ্যক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রমান, তথ্য ও ডকুমেন্টসহ শুনানিতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই নোটিশে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর এমপিও বেতন-ভাতার সরকারি অংশ স্থগিত অথবা স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হতে পারে।

বন্দর হোসাইনিয়া মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন নিরিক্ষা অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায় মেইন রাস্তার উপরে পাঁচটি স্টল ভাড়া দেয়ার অর্থের একটি অংশ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ জনাব ইউনুস হাওলাদার ৬,১৬,৮০০/=(ছয় লক্ষ ষোল হাজার আটশত)টাকা অসংগতি ভাবে ব্যয় দেখিয়েছেন।

আনিসা আক্তার ও অলিউল্লাহ নামক দুইজন শিক্ষক মাদ্রাসা সভাপতির বরাবর আলাদা দুটি আবেদনে উল্লেখ করেন বিএড স্কেল পাইয়ে দেয়ার সকল ডকুমেন্টস ঠিক করে দেয়ার কথা বলে বিশ হাজার টাকা করে অধ্যক্ষ মহোদয় চেয়েছেন এ ব্যাপারে কথা বার্তার এক পর্যায় আনিসা আক্তার এবং অলিউল্লাহ কে অফিস হতে বের করে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন।

অন্য একটি লিখিত অভিযোগে দেখা যায় বাইজিদ, সাইদুর রহমান ও আল আমিন নামের ছাত্রদের কাছ থেকে সহকারী শিক্ষক জাকিয়া ম্যামের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্রি আদায় করা হয়েছে, এর প্রতিকার চেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সভাপতির বরাবর আবেদন করেছে।
এছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ ইউনুস হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় অন্য একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পাওয়া যায় যে এই অধ্যক্ষ সাহেব আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসায় চাকরি নেয়ার সময় বেশ কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব জব্বার শিকদার বলেন, আমি নিজের হাতে অধ্যক্ষকে চাকরি দেয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা অন্য হাতে প্রদান করিয়াছি।

বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায় আমতলী বন্দর হুসাইনিয়া তামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষার সময় লিখিত পরীক্ষায় বর্তমান অধ্যক্ষ ইউনুস হাওলাদার তৃতীয় স্থান অধিকার করেন কিন্তু ওই সময়ের কমিটিকে মোটা অংকের টাকা প্রদানের মাধ্যমে লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষায় প্রথম স্থানে চলে যান। অধ্যক্ষ মহোদয় কাছে এই সংক্রান্ত ডকুমেন্টস দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দূর্নীতির বিরুদ্ধে বারবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা সভাপতি জনাব গাজী কাওসার মাদ্রাসায় শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য অধ্যক্ষকে নোটিশ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদারের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

এদিকে অভিযোগগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, টাইম স্কেল ও বিএড স্কেল সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন এবং দীর্ঘদিনের হিসাব না দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ, হিসাব সংরক্ষণ এবং বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের শুনানি ও পরবর্তী তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *