যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ: পাতানো চার্জশিট বাতিল ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

শাহিন আলম হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১৯ বছর বয়সী গৃহবধূ সাথী আক্তারকে যৌতুকের ৩ লাখ টাকার জন্য নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সাথে পুলিশের দাখিল করা বিতর্কিত চার্জশিট বাতিল এবং পিবিআই বা সিআইডির মাধ্যমে মামলাটির পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জামালপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত সাথী আক্তারের বাবা দিনমজুর মো. সাইদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত সাথীর বাবা সাইদুর রহমান বলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্যচর গ্রামের শাহ জামালের ছেলে সবা শেখের সাথে তার মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সাথীর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল স্বামী ও শশুড়বাড়ির লোকজন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ সাথী বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরবর্তীতে গত ১৩ এপ্রিল আসামিরা বাড়িতে এসে তাকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করার পর ঘরের ফ্যানের হুকের রডের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
​নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ এসে এজাহার সাজানোর নামে বিভ্রান্তি তৈরি করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই আশরাফুল) অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে মূল আসামি শাহ জামালসহ কয়েকজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেন এবং মামলার এক আসামিকে উল্টো ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেখান। আলামত গোপন করে আদালতে কেবল ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’র মনগড়া চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
​সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাস্থলের ছবিতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে সাথীর দুই হাতের কবজি ভাঙা, পা মাটিতে ঠেকানো এবং মাথার চুলের খোঁপার সাথে ওড়না পেঁচানো। চুলের খোঁপার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে কীভাবে আত্মহত্যা হতে পারে? এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
​বর্তমানে জামিনে থাকা আসামিরা পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
​সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে:
১. পুলিশের দাখিল করা বিতর্কিত চার্জশিট অবিলম্বে বাতিল করা।
২. পিবিআই (PBI) বা সিআইডি (CID)-এর মতো নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে ঘটনার পুনঃতদন্ত করানো।
৩. হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামি ও তদন্তে জালিয়াতি করা পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
​সংবাদ সম্মেলনে নিহত সাথী আক্তারের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *