মেলান্দহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ

মোঃ শওকত আলী, স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল স্থাপন, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম,ও এম্বুলেন্স সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টায় মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় সভায় চিকিৎসাসেবা, জনবল, অবকাঠামো, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মেলান্দহের প্রায় পাঁচ লাখ গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি তার সাধ্য অনুযায়ী সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

তিনি মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রশংসা করে বলেন, বড় শহর বা উন্নত সুযোগ-সুবিধার হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামীণ জনপদের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় তিনি সিনিয়র চিকিৎসক ও কনসালট্যান্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক সিনিয়র কনসালট্যান্ট চার-পাঁচ বছর ধরে এই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা হাসপাতাল ছেড়ে না গিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন—এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে বাবুল এমপি বলেন, হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম,ও এম্বুলেন্স সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সাপে কাটা রোগী আর রেফার্ড নয়

সভায় জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, এখন থেকে সাপে কাটা রোগীদের আর অন্যত্র রেফার্ড করা হবে না। মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সাপে কাটা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আগে অনেক সেবাগ্রহীতা সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আসায় চিকিৎসকরাও ওই সময় আউটডোরে রোগী দেখার জন্য আসতেন। এখন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসকরা আউটডোরে রোগী দেখবেন (যদি রোগীরা সকালে আসেন)। ফলে রোগীরা সকাল ৮টার পর থেকেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

আধুনিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ মোঃ আহসান হাবিব বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিনের পুরোনো ল্যাবরেটরি মেশিন দিয়ে বর্তমানে মানসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি ডিজিটাল ল্যাব, (এসি সমৃদ্ধ) আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দরকার।

তিনি বলেন, উন্নত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি (এসি সমৃদ্ধ) ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য ডিজিটাল ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

হাসপাতালের সেবার প্রশংসা ইউএনওর

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জিন্নাতুল আরা মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, মেলান্দহে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। এ জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সোলার প্যানেলের বরাদ্দ পাওয়া গেলে হাসপাতালের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় তা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল কবির মনজু, মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ ও হাসপাতাল ব্যাবস্থাপনা কমিটির সদস্য এটিএম মাহমুদুল হাসান, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ক্বারী হামিদুল হক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারী) ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, শিশু কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন ও কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ খোরশেদ আলম ও আরও অনেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন বক্তব্য দেন।

এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং হাসপাতাল গেটের ফার্মেসি মালিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *