আনোয়ার হোসেন,জামালপুর

জামালপুরের মেলান্দহে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ৭ মাসের ফুটফুটে শিশুসন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া এবং গৃহবধূকে নির্যাতন চালিয়ে উল্টো হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর নানা মোঃ মুমতাজ আলী খান বাদী হয়ে জামাই মোঃ হুমায়ুন আহমেদসহ ৫ জন ও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ আমলী আদালত, মেলান্দহে একটি সি.আর. মামলা (মামলা নং- ৪৮৩(১)২০২৬) দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন— মেলান্দহ উপজেলার চর বানি পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ভাবকী বাজার এলাকার মোঃ হুমায়ুন আহমেদ (২৫), তার পিতা মোঃ খাদেম আলী (৫৫), মাতা ছুরেজা বেগম (৪৫), বোন সুমাইয়া (২০) এবং স্থানীয় মোঃ রেজাউল (৪০)।
মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে জামালপুর পৌরসভার কম্পপুর গ্রামের মোঃ মুমতাজ আলী খানের মেয়ে শ্রাবন্তীর সাথে মেলান্দহের ভাবকী বাজার এলাকার মোঃ খাদেম আলীর ছেলে মোঃ হুমায়ুন আহমেদের ধর্মীয় শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বাবা মুমতাজ আলী জামাইকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অটো রিকশা ও ৩০ হাজার টাকার স্বর্ণের আংটি উপহার দেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলে আসে ‘শায়ন’ নামের ৭ মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান।
অভিযোগে প্রকাশ, সন্তান জন্মের পর থেকেই আসামীরা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে গৃহবধূ শ্রাবন্তীর ওপর ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে গৃহবধূ তা সহ্য করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
সর্বশেষ গত ২৭ জুন ২০২৬ (শনিবার) দিবাগত রাত অনুমান ৩টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে মেলান্দহ থানাধীন ভাবকী বাজারস্থ আসামীদের বসতঘরে পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী হুমায়ুন আহমেদসহ আসামীরা শ্রাবন্তীকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর নীলাফোলা জখম করে। একপর্যায়ে আসামীরা সিএনজিযোগে শ্রাবন্তীর মুখ চেপে ধরে কিছু দূরে আটকে রাখে। এই সুযোগে আসামীরা একে অপরের সহায়তায় ৭ মাসের শিশু শায়নকে হত্যা করে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।
ঘটনার আধা ঘণ্টা পর শ্রাবন্তীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি নিজ বাড়িতে এসে সন্তানকে না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে মেলান্দহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে শিশু শায়নের লাশ উদ্ধার করে।
বাদীর অভিযোগ, আসামীরা নিজেদের অপরাধ ঢাকার উদ্দেশ্যে এবং হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জখমপ্রাপ্ত ও নিসংসঙ্গ মা শ্রাবন্তীকে উল্টো শিশুর হত্যাকারী বানিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে নিহতের নানা মুমতাজ আলী খান মেলান্দহ থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/২০) এর ১১(গ)/৩০ এবং দণ্ডবিধির ৩৪১/৩০৭/৩০২/৫০৬(২)/১০৯/৩৪ ধারায় আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মুমতাজ আলী বলেন, “আমার নিষ্পাপ ৭ মাসের নাতিকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে এবং আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করে উল্টো ফাসানোর চেষ্টা করছে। আমি এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”