নুরুজ্জামান পাভেল,মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনীর বামুন্দিতে আলোচিত চুরি কাণ্ডে হত্যার স্বীকার আরিফের খুনিরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার কয়েকদিন পার হলেও প্রভাবশালীরা গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এদিকে গণপিটিুনীতে নয় পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি নিহত আরিফের স্ত্রী তাম্মির।
এ হত্যাকাণ্ডে বামন্দী এলাকার ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের এক নেতার ভাই ও ভাগ্নে এবং দোকান মালিকের ছোট ভাই তুষার সহ কয়েকজনের জড়িত থাকার গুঞ্জন উঠেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কাজ করছে পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বামন্দী বাজারের খোকন এন্টারপ্রাইজ এই টায়ারের দোকানে চুরি করার অভিযোগে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বাসিন্দা আরিফকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরিফের স্ত্রী নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার তাম্মি খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলা নং ০৮ তাং ০৩.০৬.২৬ ইং।
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটি পিকআপ যোগে কয়েকজন লোক খোকন এন্টারপ্রাইজের সামনে দাঁড়ায় তারপর দোকানে প্রবেশের চেষ্টা করে এরপর শুরু হয় ধস্তাধস্তি। অবস্থা বেগতিক দেখে পিকাপভ্যানযোগে আরিফের সাথে থাকা তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও আরিফকে ধরে আটক করে দোকান মালিকের ছোট ভাই তুষার।
স্থানীয়রা আরো জানিয়েছেন, দোকান মালিকের ছোট ভাই তুষার, আরিফকে কোল্ড স্টোরেজ সংলগ্ন জামান ফিলিং ষ্টেশনে নিয়ে সেখানে একটি ট্রাকের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে তাকে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের এক নেতার ভাই ও ভাগ্নে এবং দোকান মালিকের ছোট ভাই সহ কয়েকজন আরিফকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে গুঞ্জন উঠে।
এই ঘটনার পরপরই খোকন এন্টারপ্রাইজ সহ আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উধাও হয়ে যায়। এনিয়ে জনসাধারনের মাঝে জল্পনা কল্পনা বাড়তে থাকে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতেই সিসি টিভি ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে দাবি এলাকাবাসির।
বামন্দী বাজার কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ও গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন,বিচারবর্হিভুত কোন হত্যাকান্ড সমর্থন করিনা। আরিফ যদি চুরি করে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার করা যেত। কিন্তু সেটি না করে তাকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে যা দু:খ জনক। হত্যাকান্ডে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী জড়িত থাকে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী তাম্মি খাতুন বলেন,গনপিটুনীতে নয় তার স্বামীকে নির্মম নির্দয় ভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদৈর তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। তিনি আরো বলেন,হত্যাকান্ডের সাথে কয়েকজনের নাম ও ইন্দন দেওয়ার বিষয়টি শুনতে পাচ্ছি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হবে।
খোকন এন্টারপ্রাইজের মালিকের ভাই তুষার বলেন, চোর আরিফকে আটক করার পর স্থানীয় লোকজনের মারধরের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। এরবেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জহুরুল ইসলাম বলেন,হত্যাকান্ডের বিষয়টি তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রত হত্যাকারীদের নাম নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে অপরাধী কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী তা দেখা হবেনা।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(প্রথম পর্ব)