
দেশের বাজারে টানা কয়েক দফা বাড়ার পর অবশেষে নিম্নমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণের’ (পিওর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।
নতুন বাজার দর
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২,১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৪০,৩৩৬ টাকা। এর আগে এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২,৪২,৪৯৪ টাকা।
স্বর্ণের অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও দাম কমানো হয়েছে:
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরিতে ২,০৪১ টাকা কমিয়ে ২,২৯,৪৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরিতে ১,৭৫০ টাকা কমিয়ে ১,৯৬,৬৫৫ টাকা করা হয়েছে।
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: প্রতি ভরিতে ১,৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১,৬০,১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম
স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বর্তমানে ২,১০০ টাকা (বাজার ভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে) দরে বিক্রি হচ্ছে।
কেন এই দরপতন?
বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত এই সমন্বয় করা হয়। গত কয়েক মাসে স্বর্ণের দাম কয়েক দফা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এই হ্রাস সাধারণ ক্রেতা ও গয়না ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজুস নির্ধারিত এই দামের সাথে ভ্যাট এবং ন্যূনতম মজুরি যোগ করে চূড়ান্ত বিক্রয় মূল্য নির্ধারিত হবে। যারা আসন্ন বিয়ের মৌসুম বা বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজার দর একটি ইতিবাচক সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।