
দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক সুসংবাদ আসতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বড় ধরণের বরাদ্দ বাড়ানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে বড় অংকের উল্লম্ফন
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে সরকারি বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে কোনো একটি নির্দিষ্ট বাজেটে এই খাতে এত বড় অংকের বরাদ্দ বৃদ্ধির নজির নেই। সরকারের লক্ষ্য হলো—বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মীদের জীবনমান নিশ্চিত করা।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন পে-স্কেল
সূত্রমতে, সরকার একবারে নয়, বরং তিনটি ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে।
প্রথম ধাপে: ২০২৬ সালের জুলাই থেকে মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি পাবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে: পরবর্তী দুই বছরে ভাতার হার এবং পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
এই কৌশলী সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের ওপর হঠাৎ করে বিশাল আর্থিক চাপ পড়বে না, আবার সরকারি কর্মীরাও দ্রুত সুফল পাবেন।
পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
বরাদ্দ হওয়া ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাখা হয়েছে পেনশনভোগীদের জন্য। বিশেষ করে বয়স্ক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে এই নতুন বাজেটে। এর ফলে অবসরে থাকা লক্ষাধিক সাবেক সরকারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
কেন এই উদ্যোগ?
জাতীয় বেতন কমিশনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিগত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্থানীয় বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটা বেড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ধরে রাখা এবং দুর্নীতি রোধে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো অপরিহার্য। এই বরাদ্দ সেই লক্ষ্য পূরণেরই প্রথম ধাপ।”
অর্থনীতিবিদদের মতামত
তবে অর্থনীতিবিদরা এই বিশাল বরাদ্দ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তাদের মতে, একদিকে এটি সরকারি কর্মচারীদের স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকার এই অর্থায়ন কীভাবে সমন্বয় করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আগামী জুন মাসে জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী এই সুখবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।