
জামালপুরে বৈশাখের তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক কার্যক্রম। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দিনে-রাতে ১০থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
তাপমাত্রা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জামালপুর অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬°C থেকে ৪০°C-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। তীব্র গরমে ঘরে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তার পিচ গলা গরমে খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। অনেকে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
লোডশেডিংয়ের চিত্র
জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে:
চাহিদা বনাম সরবরাহ: ময়মনসিংহ গ্রিড ও স্থানীয় উপকেন্দ্রগুলোতে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
উৎপাদন সংকট: জামালপুর ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
গ্রামীণ জনপদ: শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোগান্তি বেশি। সদর উপজেলা, সরিষাবাড়ী ও মেলান্দহের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে টানা ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এখন নিয়মিত ঘটনা।
ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়া
শহরের দয়াময়ী মোড় এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, “গরমে দোকানে বসে থাকা যাচ্ছে না, তার ওপর কাস্টমার আসলেও অন্ধকারে কিছু দেখতে পায় না। জেনারেটর চালিয়েও খরচ উঠছে না।”
অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। চলমান গরম আর রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের চিত্র আরও ভয়াবহ; বিদ্যুতের অভাবে নেবুলাইজার বা জরুরি মেশিনগুলো চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য
পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় তারা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। উৎপাদন বাড়লে এবং বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তীব্র তাপদাহ আর লোডশেডিংয়ের এই দ্বিমুখী যন্ত্রণায় জামালপুরবাসী এখন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।