
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর কূটনৈতিক আলোচনা আবারও গভীর সংকটে পড়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা একটি ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদী ‘হিমায়িত সংঘাত’ (Frozen Conflict)-এর আশঙ্কা করছেন।
অচলাবস্থার মূল কারণ:
১. নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ: ইরান অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ ও সমুদ্রপথে জাহাজ জব্দ করা অব্যাহত রেখে আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এর প্রতিবাদে ইরান ইসলামাবাদ আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
২. পারমাণবিক প্রশ্নে অনড় অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানকে অবশ্যই ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ (Zero Enrichment) নীতিতে আসতে হবে এবং তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। অন্যদিকে, ইরান এই দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
৩. ট্রাম্পের সময়সীমা: হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির জন্য তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না এবং ইরান নমনীয় না হওয়া পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধ বজায় থাকবে।
বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি:
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি: গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প তা কয়েক দিনের জন্য বর্ধিত করলেও পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়।
হরমুজ প্রণালী সংকট: ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নিলে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে পারমাণবিক ইস্যুকেই প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটিকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা:
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার অভাব এখন চরমে। যদি ইসলামাবাদ আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই স্থবিরতা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা ডেকে আনতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, পিবিএস নিউজ এবং হাউস অফ কমন্স লাইব্রেরি রিসার্চ (২৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আপডেট)
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত অনিশ্চিত। উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে বসার পরিবর্তে একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।