রিপোর্টার, লাভলু

আন্তর্জাতিক নিউজ। ০৩ নবেম্বর ২০২৬
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ধুবড়ি জেলায় সরকারি উচ্ছেদ অভিযানে শত শত ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম।২ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জ পার্ট-নাইন এলাকায় ১ নভেম্বর এই অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছিলেন এসব পরিবার। উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
## ৬৫০ বিঘা জমিতে উচ্ছেদ অভিযান
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শত শত বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, জমিটি ভবিষ্যতে শিল্প বিভাগকে দেওয়া হতে পারে এবং সেখানে শিল্প পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।তবে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অনেকে দাবি করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁদের কারও কারও পরিবার কয়েক দশক আগে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ও বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল।
## খোলা আকাশের নিচে পরিবার গুলো
উচ্ছেদের পর বহু পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রাস্তার পাশে অস্থায়ী আশ্রয় কিংবা নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তাঁদের কাছে জমিতে বসবাসের দীর্ঘদিনের প্রমাণ ও ভূমি রাজস্ব পরিশোধের রসিদ রয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, জমিটি সরকারি এবং সেখানে বসবাসের বৈধ অধিকার প্রমাণে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
## পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ
বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর ঘটনায় পুনর্বাসন ও জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আসামে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারগুলোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নাগরিক অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রশ্নও সামনে এসেছে।