**আফ্রিকাজুড়ে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ, ১০ হাজারের বেশি আক্রান্ত; প্রাণঘাতী ভাইরাস মোকাবিলায় বাড়ছে চ্যালেঞ্জ**
রিপোর্টার, লাভলু

আন্তর্জাতিক নিউজ | ০৩ নবেম্বর ২০২৬
আফ্রিকার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ৫ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো)। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবে কঙ্গো, কেনিয়া ও উগান্ডা মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
## কঙ্গোতেই সর্বাধিক প্রাণহানি
আফ্রিকা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৭২ জন ডিআর কঙ্গোর বাসিন্দা। কেনিয়া ও উগান্ডায় মারা গেছেন দুইজন করে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৪৪ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশেরও বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডিআর কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এটি দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং এখন পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
## প্রতিবেশী দেশেও সংক্রমণ
প্রাদুর্ভাবটি ডিআর কঙ্গোর সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়েছে। উগান্ডায় কঙ্গো থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। পরে দেশটিকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, অক্টোবরে কেনিয়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।নাইজেরিয়ায়ও একজন আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশটির কয়েকটি সন্দেহভাজন সংক্রমণের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
## চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার ‘বান্দিবুগিও’ ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা নেই। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে পরীক্ষামূলক গবেষণাও শুরু হয়েছে।সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংঘাত, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানোর সমস্যার কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আফ্রিকার আরও অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়তে পারে।