দেওয়ানগঞ্জে সরু গলির শহরে যানজটে দুর্ভোগ; ভোগান্তিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

ফারুক মিয়া, দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শহরে সরু সড়ক ও অপরিকল্পিত যান চলাচলের কারণে দিন দিন বাড়ছে যানজট। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।দেওয়ানগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনবহুল উপজেলা শহর। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষ নানা প্রয়োজনে শহরে আসেন। কেউ আসেন বাজার করতে, কেউ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কাজ সারতে, আবার কেউ আসেন চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে শহরের সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল দেখা যায়।তবে শহরের সড়ক ও গলিগুলো তুলনামূলক সরু হওয়ায় যানবাহনের চাপ বাড়লে তৈরি হয় যানজট। কোথাও দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়, আবার কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় পথচারী ও যাত্রীদের। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন সাধারণ পথচারীরা। সড়কে যানবাহনের ভিড় থাকায় অনেক সময় নিরাপদে রাস্তা পারাপার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।যানজটের কারণে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকেও সময় হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে আটকে থেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।দেওয়ানগঞ্জ শহরের বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মানুষের আনাগোনা বেশি থাকায় যানজটের প্রভাব পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ক্রেতা, বিক্রেতা ও পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।সড়কে যানবাহনের চাপ ও চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে পণ্য ওঠানো-নামানো এবং দোকানের সামনে দিয়ে মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।স্থানীয়ভাবে শহরের যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সড়কের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা, যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পথচারীদের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করা এবং বাজার এলাকায় পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে শহরের যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।দীর্ঘমেয়াদে শহরের সড়কব্যবস্থা উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচলের ধরন বিবেচনায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।দেওয়ানগঞ্জ শহরের ক্রমবর্ধমান জনচাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এখন সময়ের দাবি। শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নয়, পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমেও যানজট কমানো সম্ভব।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ, নিয়মিত তদারকি এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে শহরের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেওয়ানগঞ্জ শহরকে আরও চলাচলবান্ধব ও জনবান্ধব করতে যানজট নিরসনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *