কাশিয়ানীতে মৎস্য ব্যবসায়ীর জমিতে জোরপূর্বক গাছ লাগানোর অভিযোগ; প্রাণনাশের হুমকি

তানভীর হাসান সৈকত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে গাছ লাগানো এবং বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।অভিযোগ উঠেছে, একই গ্রামের বাসিন্দা নাসির সর্দারের ছেলে নাঈম সর্দার, শাহিন সর্দার ও রাসেল সর্দারসহ কয়েকজন গত রাতে মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন মোল্লার ক্রয়কৃত জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে গাছ লাগান। এ সময় জমিতে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে লিটন মোল্লার লোকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লিটন মোল্লার ম্যানেজার ও বাড়িতে থাকা স্বজনরা প্রাণভয়ে সেখান থেকে সরে যান।ভুক্তভোগী লিটন মোল্লা,মোল্লা মৎস্য ফার্ম লিমিটেডের কর্ণধর। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দুই বছর আগে ওই জায়গা ক্রয় করে সেখানে বালু ভরাট করছেন। পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ইটও আনা হয়েছে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে নাসির সর্দারের ছেলেরা জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে গাছ লাগিয়ে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রেজাউল সর্দার ও নাসির সর্দার তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মোল্লা এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ম্যানেজার মোহাম্মদ তোরাপ শিকদার বলেন, “আমরা প্রায় দুই বছর আগে জায়গাটি ক্রয় করে বালু ভরাট করেছি। সেখানে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইটও আনা হয়েছে। মৎস্য খামারের ভেতরের পূর্ব পাশের ওই জায়গায় বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারের লোকজন সেখানে গাছ লাগিয়ে দেন। বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।”স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, “বিবাদীপক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় মৎস্য খামারে বিভিন্ন সময় প্রবেশ করে হয়রানি করেন বলে আমাদের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ওই খামারের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মাছ বিষ প্রয়োগে মারা যায় যা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। লিটন মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাসে আর আইনি প্রক্রিয়া এগোয়নি।”তিনি আরও বলেন, “লিটন মোল্লা তাঁর ঘেরসংলগ্ন জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন, বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। কিন্তু রাতের আঁধারে সেখানে গাছ লাগানোর ঘটনা আমরা দেখেছি। এ নিয়ে আর্থিক দাবি-দাওয়ার বিষয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারকে কেন্দ্র করে এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ, মারামারি ও বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসীর দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে কেউ যেন অন্যের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল বা ভোগদখলের চেষ্টা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত নাঈম সর্দার, শাহিন সর্দার, রাসেল সর্দার, নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *