রিপোর্টার, লাভলু

আন্তর্জাতিক সংবাদ | ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জাই নামের এক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, মা-বাবা, দাদা-দাদি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িটিই তাঁর কাছে স্মৃতি আর শোকের প্রতীক হয়ে আছে।আল জাজিরার ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মির্জাইয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ তেহরানে তাঁদের আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় মির্জাই বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি পরিবারের সদস্যদের ফোন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।বাড়িতে পৌঁছে তিনি দেখেন, ভবনটি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর স্ত্রী মোহাদেসেহর বয়স ছিল ২৬ বছর। বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু করা এই দম্পতি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও করছিলেন।পরিবারের সদস্যদের জীবিত পাওয়ার আশায় মির্জাই দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের কাছে ফিরে গেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যের মৃত্যুর খবর তাঁকে মেনে নিতে হয়েছে।মির্জাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বহু বছর ধরে একই ভবনে পাশাপাশি বসবাস করতেন। ভবনটি শুধু তাঁর নিজের বাড়ি ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন।পরিবারের সবাইকে হারানোর পর নিজেকে সম্পূর্ণ একা মনে হচ্ছে তাঁর। প্রতিদিন ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িটির কাছে ফিরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর জীবন যেন সেখানেই সমাহিত হয়ে আছে।এই ঘটনা আবারও যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক মূল্য সামনে এনেছে। সামরিক সংঘাতের খবরের আড়ালে প্রতিটি প্রাণহানির সঙ্গে যে একটি পরিবার, অসংখ্য স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন হারিয়ে যায়, মির্জাইয়ের অভিজ্ঞতা তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।