জামালপুরে সারের জন্য প্রহরে প্রহরে অপেক্ষা: বণ্টন বৈষম্যে বিপাকে কৃষক ব্যাহত আমন চাষ

রোকনুজ্জামান সবুজ প্রতিনিধি,ইসলামপুর

ফসলের মাঠে এখন কৃষকের চরম ব্যস্ত সময়। রোপা আমনসহ নানা জাতের ফসলের পরিচর্যায় নিয়মিত সার প্রয়োগ জরুরি হলেও জামালপুর জেলার কৃষকদের দিন কাটছে ডিলার পয়েন্টের দীর্ঘ লাইনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না পর্যাপ্ত সার। ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কৃষকের অমূল্য কর্মঘণ্টা,অন্যদিকে সঠিক সময়ে সার দিতে না পেরে আমন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​খোলা বাজারে চড়া দাম ও প্রতারণা ডিলার পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে যাচ্ছেন।

সেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ইসলামপুরে চরপুটিমারী,চরগোয়ালিনী,ইসলামপুর সদর,চিনাডুলী,বেলগাছা সাপধরী ইউনিয়ন বিভিন্ন এলাকার কৃষক শাহালম,নবাব আলী ও দুলাল মিয়ার। এতে এক লাফে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।

অন্যদিকে দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ী এলাকার কৃষক বাদশা মিয়া জানান,পুরো দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। নীতিমালা অমান্য ও ডিলার বণ্টনে চরম বৈষম্য। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী,৭টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। জামালপুরে ২১৯টি বিসিআইসি এবং ৪৭টি বিএডিসি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে ৩ জন করে ডিলার থাকার নিয়ম থাকলেও মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে চরম অসামঞ্জস্য।

​এক ডিলারের ইউনিয়ন বকশীগঞ্জের কামালপুর এবং ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নে ডিলার রয়েছে মাত্র ১ জন করে।

​অতিরিক্ত ডিলারের ইউনিয়ন ইসলামপুর উপজেলা ও বিপরীতে বগারচর শ্যামপুর ও নয়ানগর ইউনিয়নে ৪ থেকে থেকে ৫ জন করে ডিলার দেওয়া হয়েছে। বিএডিসির অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট প্রান্তিক গ্রাম ছেড়ে পৌর শহরকেন্দ্রিক।

অনিয়মিত দোকান, দেওয়ানগঞ্জের মেসার্স মুক্তা এন্টারপ্রাইজ,পলি এন্টারপ্রাইজ ও মহর এন্টারপ্রাইজের মতো পয়েন্টগুলো নিয়মিত খোলা রাখা হয় না বলে অভিযোগ কৃষকদের।

​যেসব ইউনিয়নে ডিলার বেশি সেখানে সরকারি বরাদ্দও বেশি যাচ্ছে। ফলে ডিলার বণ্টনের এই আঞ্চলিক বৈষম্যের কারণেই কৃত্রিম সংকট ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষি অফিস সৃত্রে জানাযায়, বর্তমানে জামালপুরে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন ধান এবং ২ হাজার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের চাষ হচ্ছে। এই মুহূর্তে সারের ঘাটতি বা প্রয়োগে দেরি হলে ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

​কৃষি প্রশাসনের বক্তব্য,ডিলার পয়েন্টে সারের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, “জেলায় সারের কোনো মজুত সংকট নেই। মূলত প্রয়োজনের তুলনায় ডিলার সংখ্যা কম থাকায় এবং নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া কিছু কৃষক গুজবে কান দিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার আগাম সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। আমরা নিয়মিত ডিলার পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করছি, নতুন ডিলার নিয়োগ হলে এই সংকট কেটে যাবে।”

​তবে প্রান্তিক কৃষকদের দাবি-কাগজে-কলমে সার মজুত থাকার চেয়ে বিতরণ ব্যবস্থার নৈরাজ্য দূর করা এবং ডিলার বণ্টনের বৈষম্য নিরসন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *