মেলান্দহে শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ: এলাকায় তোলপাড়

জামালপুর থেকে, রমজান আলী

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, নারীলোভী আচরণ ও স্ত্রী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষক মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী রূপালী । তাঁদের সংসারে আবু রায়হান নামে ১২ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে তিনি সুমাইয়া আক্তার সনি নামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারেও মিম নামে ৭ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর তিনি আবারও নতুন সম্পর্কে জড়ান। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করে সংসার শুরু করেন।

সম্প্রতি প্রথম স্ত্রী রূপালী স্বামীর একাধিক বিয়ের খবর জানতে পেরে মেলান্দহে মতিউর রহমানের কাছে আসেন এবং এই বিষয়ে জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মতিউর রহমান বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক নির্যাতন ও হেনস্তা করে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মতিউর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় যখনই চাকরিসূত্রে অবস্থান করেছেন, সেখানেই একটি করে বিয়ে করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তিনটি বিয়ের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তবে স্ত্রীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো সব দোষ স্ত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকরা হচ্ছেন জাতির মেরুদণ্ড। ঐতিহ্যবাহী উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একজন শিক্ষকের এমন নৈতিক স্খলন ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

জানতে চাইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মতিউর রহমানের এই কর্মকাণ্ডের কিছু কিছু বিষয় তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী এমন আচরণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে বিস্তারিত আরো কিছু তথ্য নিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশ করব অতি শীঘ্রই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *