বুলবুল আহমেদ, শেরপুর প্রতিনিধি

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামান আঙ্গুরের বিরুদ্ধে সরকারি প্রশিক্ষণ ছাড়াই পশু চিকিৎসা, সরকারি ওষুধ বিক্রি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহকারী পদে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বীকৃত ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি মাঠ পর্যায়ে গরু-ছাগলের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। চিকিৎসা ও কল চার্জের নামে অর্থ আদায় ক্ষমতার অপব্যবহার সহ নানা অভিযোগ উঠে আসে তার বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশের পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন, কারণ দর্শানোর নোটিশ বা বিভাগীয় পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয় তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, একজন অফিস সহকারী কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। অভিযোগ প্রকাশের পরও যদি কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় অভিযোগ করবে?
এর আগে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান আঙ্গুর অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি পশু চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এবং তার চিকিৎসার কারণে কোনো পশুর ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু সাঈমের সঙ্গে পূণরায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে বিষয়টি নিয়ে এড়িয়ে যান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া জানান, অফিস কিংবা বাহিরে চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব অফিস সহকারীর না। সে যদি এমন কিছু করে থাকেন তাহলে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে করেছেন। নিসন্দেহে এমন ধরনের কাজ বিধি মোতাবেক গ্রহন করে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু সাঈমের সঙ্গে কথা বলেন সে তদন্ত সাপেক্ষে কি ব্যবস্থা নেন সেটি আগে দেখেন। নয়তো আমি দেখবো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পরে সমালোচনা হয় যে, নিউজ প্রকাশের পরও যদি কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ দৃশ্যমান না হয়, তাহলে অনিয়মের অভিযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।