সরিষাবাড়ীতে সময় মতো আসেন না চেয়ারম্যান ও সচিব | ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তিতে সেবা গ্রহীতারা

মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতিতে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষেরা। রবিবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার ৪ নং আওনা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা।

গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগমের কক্ষ বন্ধ, এছাড়াও সচিবের কক্ষ খোলা থাকলেও তখন পর্যন্ত অফিসে আসেননি সচিব রাসেল মাহমুদ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ভিজিডি কার্ডধারী ও চেয়ারম্যান-সচিবের স্বাক্ষরের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দা ও পরিষদ চত্তরে বসে আছে সেবা গ্রহীতারা। সকাল ৮/৯ টা থেকে চাল নিতে বসে আছে ভিজিডি কার্ডধারীরা। এভাবে প্রায়ই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবা গ্রহীতাদের। কেও কেও অপেক্ষা করতে করতে গ্রাম আদালতের টেবিলের উপরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের দেরি করে আসা ও হঠাৎ অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত ও সালিস ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা ইচ্ছেমতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারনে নাগরিক সেবায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেয়ের জন্মনিবন্ধন করতে আসা স্থল গ্রামের বিলকিস বেগম বলেন, আমার মেয়ে আয়শার জন্য টাকাসহ জন্ম নিবন্ধন করতে দিয়েছিলাম এখানকার এক গ্রাম পুলিশের কাছে। প্রায় ১ বছর হয়ে গেলো এখনো জন্ম নিবন্ধন পাইনি। শুধু ঘুরাচ্ছে। এখন আমার মেয়ের স্কুলের জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন কিন্তু এখনো দিচ্ছে না।

ভিজিডি কার্ডের চাল নিতে আসা ভুক্তভোগী আসমা বেগম, হাফিজা বেগম, জয়নব বেওয়াসহ একাধিক কার্ডধারী অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৮/৯ টা থেকে বসে আছি ভিজিডি কার্ডের চালের জন্য। তাঁরা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন এবং দাপ্তরিক সময়ের কোনো তোয়াক্কা করছেন না। এখন বেলা প্রায় ১২ টা বাজতে চললেও সচিব বা চেয়ারম্যান কেও আসে নাই। যার কারনে আমরা এখনো চাল পাচ্ছি না। তারা আসলে নাকি আমাদের কার্ডের চাল দিবে।

এদিকে বেলা প্রায় ১২ টার দিকে আওনা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন সচিব রাসেল মাহমুদ। এসময় তাকে দেরির কারন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার সন্তান অসুস্থ, তাই আসতে দেরি হয়েছে। আসতে কিছুটা দেরি হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ জানাই।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আওনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার (01720015651) একাধিকবার কল করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই আমি জেনেছি। কেন সচিব সময় মতো আসেন না বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখছি।

ছবিঃ চেয়ারম্যান ও সচিব সময় মতো না আসায় এভাবেই সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা বারান্দায় বসে থাকে। ছবিটি সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *