
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (২৪ মে) কোয়েটা শহরের একটি রেললাইনের পাশ দিয়ে যাত্রীবাহী শাটল ট্রেনটি যাওয়ার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায় এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কোয়েটার স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। ঘটনার পর পরই কোয়েটার হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা (Medical Emergency) ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি কোয়েটা স্টেশন সংলগ্ন একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছাকাছি এলাকা অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে চারপাশের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রেললাইনের আশেপাশের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় পার্ক করে রাখা এক ডজনেরও বেশি যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
হামলার দায় স্বীকার
নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (BLA) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ট্রেনটিতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যাতায়াত করছিলেন এবং তাদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন,
”নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসী উপাদানগুলো কোনো ধরনের সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, খনিজ ও তেল সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা চলছে। এর আগেও এই অঞ্চলে রেললাইন এবং সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রেললাইন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে উদ্ধারকারী দল ও রেলওয়ে প্রকৌশলীরা কাজ করে যাচ্ছেন।