
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া ঠেকাতে এবং চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক চূড়ান্ত কূটনৈতিক মিশন নিয়ে তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা আইএসএনএ (ISNA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরম হুঁশিয়ারির পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই সফরকে যুদ্ধ এড়ানোর “শেষ সুযোগ” বা চূড়ান্ত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পটভূমি ও ট্রাম্পের আলটিমেটাম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “চুক্তি হবে কি হবে না, তা একেবারে শেষ সীমান্তে (Borderline) দাঁড়িয়ে আছে। আমরা যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তেহরানের কাছ থেকে শতভাগ সঠিক উত্তর না পাই, তবে খুব দ্রুতই আবার হামলা শুরু হবে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদেই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে একমাত্র সরাসরি আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অসীম মুনির নিজেই। সেই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছিল।
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী পুনরায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। সেনাপ্রধানের এই সফরের মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফর করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠক করেন।
তেহরানের অবস্থান
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাবের অভিযোগ এনেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা আবার যুদ্ধ শুরু করে, তবে এর আঞ্চলিক পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং ওয়াশিংটনের জন্য “বড় ধরনের বিস্ময়” অপেক্ষা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই ঘনঘন তেহরান সফর ইঙ্গিত করে যে, ওমান ও কাতারের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে মিলে ইসলামাবাদ মধ্যপ্রাচ্যে একটি মহাবিপর্যয় এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের এই তেহরান সংলাপের ওপরই এখন নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে নাকি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হবে।
(রয়টার্স, এএফপি এবং আইএসএনএ-এর তথ্য সহায়তায়)