
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়া “খুবই সম্ভব”। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে আবারও ভয়াবহ বোমাবর্ষণের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথম কোনো হামলা।
ট্রাম্পের ‘শান্তি ও হুমকি’র বার্তা
গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সাথে আলোচনাকে “খুবই ইতিবাচক” বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন:
”ইরান খুব বাজেভাবে একটি চুক্তি করতে চায়। আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় অত্যন্ত ভালো আলোচনা করেছি এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখন খুবই সম্ভব।”
তবে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান যদি পূর্বনির্ধারিত শর্তগুলো (যেমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা) মেনে না নেয়, তবে মার্কিন সামরিক অভিযান আবার শুরু হবে এবং এবারের হামলার তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা
ওয়াশিংটনে যখন আলোচনার গুঞ্জন চলছে, তখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে (দাহিহ এলাকা) অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এই হামলায় হিজবুল্লাহর এলিট ‘রাদওয়ান ফোর্সেস’-এর শীর্ষ কমান্ডার মালেক বালুত নিহত হয়েছেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর বৈরুতে এটিই প্রথম কোনো বড় আক্রমণ।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সত্যতা যাচাই
আলোচনা: মার্কিন প্রস্তাবটি বর্তমানে ইরানি কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনার বিষয়গুলো আদান-প্রদান হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থিতিশীল। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চুক্তি হলে এই পথ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
হামলার কারণ: ইসরায়েল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানোয় তারা এই ‘টার্গেটেড কিলিং’ চালিয়েছে।
একদিকে কূটনীতির টেবিলে শান্তির আশা জাগছে, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ট্রাম্পের চূড়ান্ত আলটিমেটামের মধ্যে আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।