আলমগীর মানিক, রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের পৌরসভা এলাকা, কাঠালতলি, বনরূপাসহ বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর একাধিক টিম অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও শহরজুড়ে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে, যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা কিংবা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই বার্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বসাধারণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সবাইকে আইন মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের জেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানই হতে পারে বর্তমান সংকট উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।