
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী সহিংসতার আবহে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। বুধবার (৬ মে, ২০২৬) রাতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (PA) চন্দ্রনাথ রথ-কে গুলি করে হত্যা করল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ চন্দ্রনাথ রথ কলকাতা থেকে গাড়িতে করে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন। যশোর রোডের কাছে দোহরিয়া লেনে ঢোকার সময় একটি সাদা রঙের গাড়ি তাঁদের পথ আটকায়। মুহূর্তের মধ্যে মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেটধারী একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালায়।
গাড়ির সামনের সিটে বসে থাকা চন্দ্রনাথের বুকে তিনটি গুলি লাগে। তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী বুদ্ধদেব বেরা-ও এই হামলায় গুরুতর আহত হন। হামলা চালিয়েই দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথ রথ-কে মৃত ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেব বেরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
খবর পেয়েই রাতেই বারাসত স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এই ঘটনাকে একটি “সুপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথার রাজনৈতিক খুন” বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন:
“গত ২-৩ দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল বা রেইকি করা হয়েছিল। এটি পুরোপুরি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড।”
শুভেন্দু আরও জানান যে, এই মুহূর্তে তিনি কোনো রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চান না, তবে তিনি পুলিশের ওপর নজর রাখছেন। পাশাপাশি তিনি বিজেপি সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং আইন হাতে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
- বিজেপি: দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের (২০৭টি আসন) পর থেকেই বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড সেই প্রতিহিংসারই অংশ।
- তৃণমূল কংগ্রেস: তৃণমূল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানানো হয়েছে যে, তারা এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আদালতের নজরদারিতে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে যে, গত তিন দিনে তাদেরও কয়েকজন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজ্য পুলিশের ডিজি (DGP) সিদ্ধনাথ গুপ্ত নিজে রাতেই ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে যান। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ঘাতক গাড়ি ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার নম্বর প্লেটটি সম্ভবত জাল। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ এক সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীতে (IAF) কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যুতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বিজেপিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।