অন্ধকারে চিকিৎসা, বিকল এ্যাম্বুলেন্স: মেলান্দহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই এখন রোগী!

মেলান্দহ-স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্স

​জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে চরম ভোগান্তি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স থাকলেও সরঞ্জাম, জনবল এবং অবকাঠামোর অভাবে সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ গেলে জরুরি বিভাগে মোমবাতি বা মোবাইলের আলোয় চলে রোগীদের ড্রেসিং ও সেলাইয়ের কাজ। আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে, প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে গরিব রোগীদের গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি টাকা।

​হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আহসান হাবীব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমাদের সংগ্রাম নিউজ পোর্টালের এক প্রতিনিধি কে তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সংকটগুলো তুলে ধরেন।

​অন্ধকারে জরুরি সেবা, নেই জেনারেটর

​হাসপাতালটিতে নিজস্ব কোনো জেনারেটর নেই। যেখানে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত মানুষের আগমন ঘটতে দেখা যায়। আর সেখানেই  দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো হয়ে আছে সোলার সিস্টেমটিও। ফলে লোডশেডিংয়ের সময় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। ডাঃ আহসান হাবীব জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে আইপিএস দিয়েও কাজ চলে না, তখন বাধ্য হয়েই অন্ধকারে রোগীদের জরুরি সেলাই ও ড্রেসিং করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

​সরঞ্জাম ও পরিবহন সংকট

​দীর্ঘ দেড় বছর ধরে হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি নষ্ট। সরকারিভাবে যেখানে ১২০ টাকায় এই সেবা পাওয়ার কথা, সেখানে গর্ভবতী মায়েদের বাইরে গিয়ে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। নেই কোনো ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। পুরনো এনালগ মেশিন দিয়ে দিনে ১০টির বেশি এক্স-রে করা সম্ভব হয় না। এছাড়া, হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের সবগুলোই বিকল। পুরনো একটি এ্যাম্বুলেন্স মাঝে মাঝে মেরামত করে চালানো হলেও তা প্রায়ই মাঝপথে নষ্ট হয়ে যায়।

​১৭ বছর ধরে নিয়োগ নেই, পরিচ্ছন্নতায় বেহাল দশা

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ বছর ধরে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ বন্ধ। ফলে কোনো নিজস্ব সুইপার বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। মাত্র একজনের ওপর ভরসা করে চলছে পুরো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। এছাড়া কোনো সিকিউরিটি গার্ড না থাকায় দালাল ও বহিরাগতদের উপদ্রব বেড়ে গেছে চরমভাবে।

​জরাজীর্ণ ভবন ও পানি সমস্যা

​হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ডাক্তারদের একটি ভবন বাদে বাকি সবগুলোই প্রায় পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ। নিজস্ব পানির পাম্প ও মোটর নষ্ট থাকায় হাসপাতালের পানি সরবরাহ এখন পৌরসভার লাইনের ওপর নির্ভরশীল।

ডঃ মোঃ আহসান হাবীব বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো লিখিতভাবে সিভিল সার্জন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পেলে আমরা এই জনপদের মানুষকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারব।”

সারসংক্ষেপ: ডাক্তার থাকলেও সরঞ্জামের অভাবে সেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। মেলান্দহবাসীর দাবি, দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স, ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন এবং জেনারেটর সরবরাহ করে হাসপাতালের এই অমানবিক পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *