
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের শিশুখাদ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। নামী-দামী ব্র্যান্ডের মোড়ক নকল করে তৈরি করা চিপস, জুস, চকলেট ও পাউডার ড্রিংকস এখন উপজেলার পাড়া-মহল্লার প্রায় প্রতিটি দোকানেই মিলছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব খাদ্যে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক শিশুদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
উপজেলার পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কলাহাটি মোড়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে এসব ভেজাল পণ্যের বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিক মুনাফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অনুমোদনহীন এসব পণ্য উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ছোট দোকানগুলোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেজাল খাদ্যপণ্যের মোড়কগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও রঙিন হওয়ায় শিশুদের সহজেই দৃষ্টি কাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও বিষয়টি না বুঝে সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন এসব ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য।
উপজেলার লতিফা বীজ ভাণ্ডারের মালিক ও অভিভাবক আহসান হাবীব নূরনবী বলেন, “রঙিন ও আকর্ষণীয় মোড়কের কারণে শিশুরা সহজেই এসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অনেক অভিভাবক না বুঝেই এগুলো কিনে দিচ্ছেন। এই সুযোগটাই নিচ্ছে অসাধু চক্র।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনি মদক বলেন, “সবাই বিক্রি করে, তাই আমিও করি। সবাই বন্ধ করলে আমিও বন্ধ করব।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া দায় চাপান সরবরাহকারীদের ওপর। তিনি বলেন, “ঢাকার চকবাজার থেকে এসব পণ্য আনা হয়। সেখানে বন্ধ হলে আমরাও আর আনতে পারব না।
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোস্তফা কামাল টিটন জানান, খাদ্যে ভেজালের দায়ে এর আগে পারভীন স্টোরের মালিক ফকির আলীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাজার পরিদর্শনে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। শিশুদের জীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ তামিম। তিনি বলেন, এসব ভেজাল খাদ্যে ব্যবহৃত নিম্নমানের উপাদান ও রাসায়নিক শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত সেবনে লিভার জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। কলাহাটি মোড়সহ উপজেলার সব বাজারে শিগগিরই বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।