
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং কূটনৈতিক লড়াই এক নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগের আহ্বান জানানোর পর তেহরান অত্যন্ত কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের রণকৌশলকে ‘অকার্যকর’ এবং ‘কৌশলহীন যুদ্ধ’ বলে উপহাস করেছেন।
ট্রাম্পের ‘গিভ আপ’ বার্তা ও অবরোধের হুমকি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বার্তায় ইরানকে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার বা ‘ছেড়ে দেওয়ার’ (Give up) আহ্বান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ না ইরান আলোচনার টেবিলে বসছে এবং তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করছে, ততক্ষণ এই কঠোর অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গালিবাফের তীক্ষ্ণ জবাব: ‘এটি কৌশলহীন যুদ্ধ’
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন রণকৌশলকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে উপহাস করে বলেন:
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এই পদক্ষেপগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে। তিনি একে একটি “No-strategy war” বা কৌশলহীন যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন।
গালিবাফ দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানকে কাবু করার পরিবর্তে নিজেরাই এখন সংকটে পড়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তজেনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রেজিম চেঞ্জ (সরকার পরিবর্তন) থেকে শুরু করে এখন তাদের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে তারা তাদের নিখোঁজ পাইলটদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।”
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকির ছায়ায় ইরান কখনোই কোনো আলোচনায় বসবে না।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার শঙ্কা
বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের সামরিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। গালিবাফ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে হরমুজ প্রণালী আর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। ইরান এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজস্ব কঠোর নিয়ম চালু করার হুমকি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
রাশিয়া এবং জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, এই উত্তেজনা প্রশমিত না হলে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে। ইউএন্ডিপি (UNDP) জানিয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে কোটি কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।