
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছেন, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ট্রাম্পের টেবিলে কী আছে?
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের পাঠানো একটি তিন স্তরের শান্তি পরিকল্পনা এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। এই পরিকল্পনায় মূলত লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে জাহাজের নিরাপত্তা এবং লেবানন-ইরান সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জাতিসংঘের কড়া হুঁশিয়ারি
এদিকে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাফ জানিয়েছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সচল রাখতে হরমুজ প্রণালীর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “আমি সব পক্ষকে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে এই নৌপথ খুলে দিন। জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাধা দূর করা এখন সময়ের দাবি।”
কেন এই উদ্বেগ?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা?
শোনা যাচ্ছে, এই সমঝোতার পেছনে পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। আগামী এক মাসের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে বলে আশা করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তবে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।