রাঙামাটির চন্দ্রঘোণায় ঋষি আশ্রম থেকে ধর্মান্তরিত তরুণী উদ্ধার!

আলমগীর মানিক,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া এলাকার একটি সনাতন ঋষি আশ্রম থেকে ধর্মান্তরিত এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেলে আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ রিকুইজিশনের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর হিন্দুপাড়া এলাকার তন্নী দে ঋপন্না (২১), যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ‘আয়েশা সিদ্দিকা জারা’ নাম গ্রহণ করেছেন, তাকে আশ্রমে আটকে রাখা হয়েছে; এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে তাকে উদ্ধার করে।

চন্দ্রঘোনা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাকের আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর বাড়ি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানা এলাকায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কক্সবাজার আদালত থেকে ঈদগাঁও থানা পুলিশের অনুকূলে একটি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। ওই সার্চ ওয়ারেন্ট এবং ঈদগাঁও থানা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রমে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে। তাকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তী সকল ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে।”

উদ্ধার হওয়া তরুণী দাবি করেন, তিনি গত ১ মার্চ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে তার মা জানান, পরিবারের সদস্যরা কয়েকদিন আগে তাকে ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রমে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে আশ্রমের এক ঋষি সাধু বলেন, “মেয়েটি প্রায় দুই মাস ধরে আশ্রমে অবস্থান করছিল। আশ্রমে প্রতিদিন অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ আসা-যাওয়া করেন। সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তার মা-বাবাই তাকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ সাকের আহমেদ এর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে তরুণীর বক্তব্য, পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *