মোঃ আশরাফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের আমুয়াবাইদ এলাকার মোঃ মজিদ মাষ্টারের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু (৪৭) গত ৩১ মে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাড়ী না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন।
ঘাটাইল থানা পুলিশের প্রেস রিজিলসূত্রে জানা যায়,
বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোকছেদুর রহমানের নেতৃত্বে ওসি তদন্ত প্রকাশ কুমার বসু, এস আই তাহেরুল ইসলাম, এস আই মোঃ রাজু আহমেদ, এসআই মোঃ সাইদুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ রাজিব পারভেজ, এএসআই সুমন কুমার সরকার ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায়, গোয়েন্দা তথ্য এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার অন্যতম আসামি মোঃ সোহেল মিয়াকে আটক করা হয়। সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক অপর ৪ আসামী আবু হানিফ, মোঃ জয়নাল আবেদীন, মোঃ মসলিম উদ্দিন, মোঃ আঃ করিমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের তথ্য এবং তাদের দেখানো মতে ৪জুন দিবাগত রাত ১২.৩০ ঘটিকায় উপজেলার কাউকে নগর এলাকায় জৈনক রইস উদ্দিন এর একটি নিচু জলাভূমি থেকে ডুবানো অবস্থায় নিখোঁজ মোঃ আমিনুল ইসলাম খান মিন্টুর মৃতদেহ উদ্ধার করা করা হয়। পূর্ব শত্রু তার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে বলে জানান। ৩ মাস পূর্বে বোয়ালীহাট বাড়ী বাজারে মোঃ আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু ও মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন তোতা এর মধ্যে তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন তোতা ওই ঘটনার পর থেকে মিন্টুর প্রতি ক্ষুদ্ধ ও শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে অর্থের বিনিময়ে মিন্টুকে হত্যার জন্য মোঃ সোহেল ও আবু হানিফকে ভাড়া করে । সোহেল ও হানিফ ৩১ মে রাত আনুমানিক ৮.৩০ ঘটিকায় আমিনুল ইসলাম খান মিন্টুকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কাউকে নগর এলাকায় জৈনক রহিজ উদ্দিনের ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মিন্টুকে হত্যা করে মৃতদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ডোবার কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। আসানী মোঃ সোহেল ও মোঃ হানিফ নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। অপর আসামি মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন তোতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।