তানভীর হাসান সৈকত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই ভালোবাসা ও ভাগাভাগির উৎসব। কিন্তু সমাজের অনেক অসহায়, ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী ও দুস্থ পরিবারের কাছে ঈদের আনন্দ যেন প্রতি বছরই অধরাই থেকে যায়। ঘরে খাবার নেই, সন্তানদের মুখে হাসি নেই, ঈদের দিনটিও কাটে দুশ্চিন্তা আর অভাবের দীর্ঘশ্বাসে। ঠিক এমন সময় মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ফুটালেন গোপালগঞ্জের মানবিক মানুষ, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট জনি সিকদার।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রবিবার (২৪ মে) সকাল ৯টায় গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া আরামবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনে নিজ ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে চাল বিতরণ করেন তিনি। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০০ জন ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, বিধবা, দিনমজুর ও অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ৫ কেজি করে মোট ২৫০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।
সকাল থেকেই শত শত অসহায় নারী-পুরুষের ভিড়ে এলাকাটি যেন এক মানবতার মিলনমেলায় পরিণত হয়। কারো চোখে ছিল অভাবের কষ্ট, আবার কারো মুখে ফুটে উঠেছিল ঈদের আগাম আনন্দের হাসি। অনেকেই বলছিলেন – এবার অন্তত ঈদের দিন সন্তানদের না খাইয়ে রাখতে হবে না।
ঈদ উপহার পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন আলেয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
এই গরমে কোথাও যাইতে পারতেছি না। ঘরে চাল ছিল না, সামনে ঈদ – খুব চিন্তায় আছিলাম। জনি আব্বা নিজে বাড়িতে কার্ড দিয়া গেছে। আজ চাউল পাইছি। আল্লাহ উনারে অনেক ভালো রাখুক। গরিব মানুষের পাশে এমনভাবে কেউ দাঁড়ায় না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অ্যাডভোকেট জনি সিকদার শুধু ঈদে নয়, বছরের বিভিন্ন সময় নীরবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের দুঃখ-কষ্টকে নিজের মনে ধারণ করেই তিনি সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।
এলাকাবাসী আরও বলেন, আজকের এই সময়ে যখন অনেকেই নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত, তখন জনি সিকদারের মতো মানুষরা সমাজে মানবতার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগ শুধু চাল বিতরণ নয়, বরং অসহায় মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও বেঁচে থাকার সাহস জাগিয়ে তুলেছে।
ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আর সেই শিক্ষাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে অ্যাডভোকেট জনি সিকদার যেন প্রমাণ করলেন – একজন মানুষের আন্তরিক ভালোবাসাই শত শত অসহায় পরিবারের ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে পারে।