ফরিদপুরে মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন।

মোঃ সাদ্দাম হোসাইন সোহান,ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মা ও শিশুকন্যা হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন পুলিশের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সামিয়ার মরদেহসহ গত ১৪ মে চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল বাশার মোল্লার ওপর।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে উজ্জ্বল খান তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ৪ মার্চ রাতে চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর জেরে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেন। ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশুর পোশাক, একটি মালা, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস এবং ডিআই-১ মো. মোশারফ হোসেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *