
চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
ভয়াবহতা ও উদ্ধার অভিযান
হুনান প্রদেশের লিয়াউয়াং শহরে অবস্থিত এই কারখানাটিতে যখন বিস্ফোরণ ঘটে, তখন ভেতরে অনেক শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকেও শোনা যায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়। কারখানার বিশাল একটি অংশ মাটির সাথে মিশে গেছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর একাধিক ইউনিট। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, ততক্ষণে ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও অনেককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার কারণ ও তদন্ত
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে:
- অত্যধিক দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের মজুদ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
- নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ফলে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
ঘটনা তদন্তে চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্বের বৃহত্তম আতশবাজি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে হুনানের বিশেষ পরিচিতি থাকলেও এখানে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই ভয়াবহ প্রাণহানির পর প্রদেশটির অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
আমাদের সংগ্রাম-এর বিশেষ নোট
বেইজিংয়ের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় পুরো হুনান প্রদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।