জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মো. আলমগীর, জামালপুর প্রতিনিধি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএস ফিরোজ মিয়ার উদ্যােগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে জেনারেল হাসপাতাল গেইট ঔষধ মার্কেটে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএস ফিরোজ মিয়া।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজ মিয়া বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন। রণাঙ্গনে তিনি যুদ্ধ করেছেন। আর শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় পাকিস্তানের কারাগারে গিয়েছিলেন। আজকের এই দিনটি জিয়াউর রহমানকে অত্যন্ত ভরাক্রান্ত চিত্তে মনে পড়ে। সেই জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে এই বিপ্লব ও সংহতি দিবস হতো না। এই জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। এই বাংলাদেশ জিয়াউর রহমানের উপহার।তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট কিছু উশৃংখল সৈনিকের দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমান যখন নিহত হন। সেই মুহূর্তে মুস্তাকের কাছ থেকে সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে রাশেদ মোশারফ সরকার গঠন করে। জিয়াউর রহমানকে তখন তার বাসায় কারাবন্দী করেন। গৃহবন্দী থেকে উদ্ধার করেন সিপাহী জনতা। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিয়াউর রহমানকে সেই বন্দীদশা থেকে বের করে নিয়ে এসে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেন। তিনি একটি দলের প্রয়োজন মনে করেছিলেন। তখন তিনি ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বরে জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন।তিনি বলেন, আজকে সেই জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। তারেক রহমান এই দেশের সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করে এই দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি সুন্দর রেখে তিনি দেশ পরিচালনা করেছেন। আজকে দেখেন শেখ হাসিনাকে নিয়ে যখন ক্ষমতায় বহিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে, বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন জিয়াউর রহমান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে হাসিনাকে নির্বাচন ও রাজনীতি করার সুযোগ করে দিলেন। শেখ হাসিনা কি করলো ভারতের সাথে আতাত করে জিয়াউর রহমানকে খুন করলেন।ফিরোজ মিয়া বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে ভোটার বিহীন নির্বাচন করে তিনি তিনবার ক্ষমতায় ছিলেন। ক্ষমতায় থাকার পর অসংখ্য মানুষকে আয়না ঘরে হত্যা করে। মানুষের কণ্ঠ রোধ করে তিনি কি করেছেন, তার ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরার জন্য শত চেষ্টা করেছেন। চব্বিশ সালে পাঁচ আগস্ট, আমরা ৩৬ জুলাই বলি। পাঁচ আগস্টে এই দেশের মানুষ, চৌদ্দশ প্রাণের বিনিময়ে শেখ হাসিনাকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেন।তিনি বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বলতে চাই এই দেশ নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে আমরা তাদেরকে কেউ প্রশ্রয় দিবো না। আমরা তাদেরকে রাজপথে মোকাবিলা করবো। আজকে আওয়ামী লীগ ঘাপটি মেরে বসে আছে। আজকের এই দিনে সকলকে শপথ নিতে হবে। বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে নিজেকে আত্মহতি দিতে হবে। বিপন্ন করতে হবে নিজের জীবনের মায়া। জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের নির্দেশে রাজ পথে আসতে হবে এবং খুনিদেরকে প্রতিহত করতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়াইতে হবে। এই দেশে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি। জিয়াউর রহমানের সন্তানকে আজকে এই দেশের মানুষ ভালোবেসে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করেছেন।শহর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আলতাব হোসেন মন্ডলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আনিছুর রহমান আনিছ, বিএনপি নেতা মো. মোতালেব হোসেন, শহর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, নূর ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সম্পাদক তাইফুল ইসলাম, সদস্য মোর্শেদ রুহানি, মোস্তফা, সাবেক সদস্য ফরিদুল ইসলাম, শহর যুবদলের সদস্য সচিব জিয়াউল হক জিয়া, শ্রমিক নেতা জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সবুজ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *