মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারিত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের একটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।

রিপোর্টার লাভলু

১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আন্তর্জাতিক সংবাদ

ঘোষণার তাৎপর্য কী?

১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় অনুসন্ধান শুরুর কথা বললেও প্রকল্পের অর্থায়ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি, নির্দিষ্ট স্থান বা সময়সূচি জানাননি। ফলে ঘোষণাটিকে এখনই তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না।

গ্রিনল্যান্ডের সরকার কী বলছে?

ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সরকারি বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের খনিজসম্পদবিষয়ক উপমন্ত্রী ইয়োরগেন হামেকেন-হলম সিএনএনকে বলেছেন, সেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কিছু কার্যক্রম চলছে, কিন্তু তা বড় আকারের অনুসন্ধান থেকে এখনো অনেক দূরে। চলমান ছোট প্রকল্পগুলো বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে কয়েক বছরও লাগতে পারে।

সামরিক চুক্তি কি যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ উত্তোলনের অধিকার দিয়েছে?

না—প্রকাশিত চুক্তির বিবরণ অনুযায়ী, সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের অনুমতি আর প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান বা উত্তোলনের অধিকার এক বিষয় নয়। ২২ সেপ্টেম্বরের চুক্তিতে সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ, নতুন প্রতিরক্ষা এলাকা এবং খনিজ খাতে সহযোগিতার কথা রয়েছে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের অধিকার দেওয়া হয়নি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডে বড় আকারে সম্পদ আহরণের পথে আরও কিছু বাধা রয়েছে:

  • প্রতিকূল আবহাওয়া ও দীর্ঘ শীতকাল।
  • দুর্গম এলাকায় পরিবহন ও অবকাঠামোর ঘাটতি।
  • অনুসন্ধান ও উত্তোলনের বিপুল ব্যয়।
  • পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় অনুমোদনের প্রয়োজন।

এসব কারণে ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট প্রকল্প, অনুমোদন, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *