রিপোর্টার লাভলু

১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আন্তর্জাতিক সংবাদ
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে ফিলিস্তিনি কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবরের এ অভিযানে নারী অধিকারবিষয়ক একটি সংগঠন ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয় তল্লাশি করা হয়। একই সময়ে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল চত্বরেও ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।
অভিযানে যেসব সংস্থা লক্ষ্যবস্তু
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী রামাল্লায় দুটি সংগঠনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়।
- ইউনিয়ন অব প্যালেস্টিনিয়ান উইমেনস কমিটিজ: ফিলিস্তিনি নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন।
- আদ্দামির প্রিজনার সাপোর্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন: ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় আদ্দামিরের কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে আল জাজিরার সাংবাদিক জানিয়েছেন। সংগঠনটি এর আগেও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্ধ হওয়ার মুখে পড়েছিল।
সরকারি হাসপাতাল ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতা
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (WAFA) বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রামাল্লার প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্সের প্রবেশপথগুলোর আশপাশে ইসরায়েলি স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছিল। হাসপাতালটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কতটা ব্যাহত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কেন এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ?
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েল কয়েকটি ফিলিস্তিনি সংগঠনকে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নিজেদের মানবাধিকার ও নাগরিক সহায়তামূলক কাজের কথা বলে আসছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরও অতীতে ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
১৩ অক্টোবরের অভিযানটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের কার্যক্রম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সর্বশেষ অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য, জব্দ করা সরঞ্জামের পূর্ণ বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।