মণিপুরে সংঘর্ষ, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৯

রিপোর্টার লাভলু

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সহিংসতার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় দুই সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস করা অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ৯ ও ১০ অক্টোবর রাজ্যের তিনটি জেলায় এসব সহিংস ঘটনা ঘটে।

কী ঘটেছে?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অভিযানের সময় গুলিবিনিময় শুরু হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল কথিত অবৈধ বাংকার অপসারণ। এ ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের ৪২ বছর বয়সী এক নারী ডমখোনেই তৌথাং নিহত হন।

এরপর বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কামজং, কাংপোকপি ও উখরুল জেলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে নাগা সম্প্রদায়ের কয়েকজন গ্রামরক্ষী এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলার চাসাদ থানার আশপাশে ৪০০ মিটার এলাকার মধ্যে জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কেন এই সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ?
মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত ও ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রাণহানি ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক যাতায়াত নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংঘর্ষের সব ঘটনার দায় কার, তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *