জামালপুরে মেয়র প্রার্থী ফিরোজ মিয়া’র উদ্যােগে উঠান বৈঠক

মো. আলমগীর, জামালপুর প্রতিনিধি


জামালপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী জিএস ফিরোজ মিয়া’র উদ্যােগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পৌরসভার পাথালিয়া ছাতার মোড় এলাকায় এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সাজু মিয়ার সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী জিএস ফিরোজ মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার নেতৃত্ব কেউ দয়া করে দেয় নাই। আমি পাথালিয়ার ছেলে, আমি পাথালিয়ার গর্ব। পাথালিয়া আমার অহংকার। আমি পাথালিয়ার ছেলে বলে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে অদৃষ্ট হয়েছি। স্রোতের বিপরীতে আমি সাঁতার কাটি। লংকায় গেলে সবাই রাবণ হয়। কেউ কাউকে চিনে না। আপনাদের সন্তান হিসেবে একটি কথা বলে যাই। প্রায় আড়াই বছর ইউনুস সরকার ছিল।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক গ্রামের মানুষ অত্যাচারের শিকার হয়েছে। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেক মানুষ। কেউ কি বলতে পারবেন আমি কাউকে অন্যায় ভাবে কটু কথা বলেছি কিনা। এখন পর্যন্ত আমি কারো সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি? আমি বলতে চাই আজকে যারা ক্ষমতার বাহাদুরি করে বিভিন্নভাবে পদ-পদবী নিয়ে এলাকার ভিতরে এলাকার মানুষকে হয়রানি করছেন। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি সেই সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি।পাথালিয়া দলগত কোন বিভেদ ছিল না অতীতে। বর্তমানেও নাই। আশা করি ভবিষ্যতেও কেউ করবে না। করলে আমরা সকলে মিলে প্রতিহত করব ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, আপনারা সবাই এই ফিরোজের জন্য পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সবার কাছে একটি করে ভোট ভিক্ষা চাইবেন। আর সবাই ফিরোজের দায়িত্ব নিবেন। সবাইকে বলবেন ফিরোজকে যদি আপনারা মেয়র বানান আমি কথা দিচ্ছি যে কোন কাজ ফিরোজকে দিয়ে সমাধান করব। এরকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ভোট নিবেন। আজকে পৌরসভার সকল উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত। রাস্তাঘাট নাই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই। আমার জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি দেখি নাই এই পাথালিয়ায় পানি উঠেছে। আজ একটু বৃষ্টি হলেই পাথালিয়াসহ শহরের সকল রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যা। এর কারণ কি জানেন?

ফিরোজ মিয়া বলেন, জামালপুর পৌরসভার যত ড্রেনেজ ব্যবস্থা হয়েছিল, সেই ড্রেনেজ ব্যবস্থাগুলো অপরিকল্পিত ভাবে হয়ে ছিল। পৌরসভার জনগণের কথা চিন্তা না করে তারা হরিলুটের কাজ করে ব্যবসা করেছিল। আজকে সেই ড্রেন দিয়ে পানি যায় না। ড্রেনের নিচে পানি জমে থাকে। আমি যদি মেয়র হই আল্লাহ যদি আমাকে মেয়র বানা। আমি যদি ওই চেয়ারে বসি, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি জামালপুর পৌরসভার সর্বপ্রথম ড্রেনেজ ব্যবস্থা করব। জামালপুর পৌরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করাসহ জামালপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব ফিরোজ মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার, বিএনপি নেতা আব্দুল মোতালেব, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য আব্দুল জব্বার, গোলাম মোস্তফা, মিজানুর রহমান স্বপন, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক, শহর যুবদলের সদস্য সচিব জিয়াউল হক জিয়া, যুগ্ম-আহবায়ক রেজাউল করিম নিলু, আলতাব হোসেন মন্ডল, জেলা মহিলা দলের নেত্রী পারভীন আক্তার, রুবি, শিখা, নাসরিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য রেজাউল করিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সবুজ প্রমুখ।

উঠান বৈঠকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *