সামিয়া সুলতানা সাবনম,নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের স্মৃতিকে ধারণ করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “প্রতিযোগিতা নয়, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন—এই হোক আমাদের পথচলা।”
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।
কর্মচারী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান রাকিব। এ সময় কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহা. আজিজুর রহমান, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাজু আহমেদ, পরিকল্পনা উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান এবং পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী।
এছাড়া ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী এ কে এম জহিরুল হাছান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সদস্য সচিব মারুফ হাসান (মামুন সরকার)সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।” খেলাধুলার মাধ্যমে কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং একটি সুন্দর ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তাই প্রতিযোগিতার চেয়ে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি আনন্দঘন ও মিলনমেলায় পরিণত হয়।