​স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, বস্তাবন্দি লাশ ফেলা হলো নদীতে: স্বামী গ্রেপ্তার

শাহিন আলম হৃদয়,স্টাফ রিপোর্টার

স্ত্রীকে অন্য এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে মিরান (২০) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বামী হাবিজুর ফকিরকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
​মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে স্বপ্রণোদিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত হাবিজুর।
​গ্রেপ্তারকৃত হাবিজুর জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কুতুবেরচর গ্রামের উকিল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবেরচর এলাকায় বসবাস করছিলেন।
​ঘরে ফিরে স্ত্রী ও যুবককে দেখেন স্বামী
​পুলিশ ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ জুলাই রাতে। ঐ রাতে হাবিজুর হঠাৎ ঘরে ফিরে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে স্ত্রী হাসি বেগমের সঙ্গে মিরানকে দেখতে পান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মিরানের পেটে ও বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে তীব্র আঘাতে মিরান নিস্তেজ ও অচেতন হয়ে পড়েন।
​পরবর্তীতে মিরানের জ্ঞান ফেরানোর জন্য তার মাথায় ও বুকে পানি ঢালেন হাবিজুর। তবে প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টা করেও কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় মিরানকে মৃত ভেবে রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার দিকে পা দড়ি দিয়ে বেঁধে দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নদীতে ভাসিয়ে দেন।
​ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
​ঘটনার কয়েকদিন পর, গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহের বিদ্যাগঞ্জ খেয়াঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের বস্তাবন্দি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা এসে মরদেহটি নিখোঁজ মিরানের বলে শনাক্ত করেন।
​এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৭, ধারা: ৩০২/২০১/৩৪) দায়ের করেন।
​প্রযুক্তি ও অভিযানের মুখে ঘাতক গ্রেপ্তার
​মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম মাঠে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জামালপুরের বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার দুর্গম নদীপথে টানা অভিযান চালিয়ে হাবিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​পুলিশ জানিয়েছে, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার এবং তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *