জামালপুরে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলমান

মো. আলমগীর, জামালপুর প্রতিনিধি

২ দফা দাবিতে জামালপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছেন জেলার শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবিতে তারা এ ধর্মঘট পালন করছেন।

গত ৬ জুলাই থেকে ডাক কর্মচারীদের ধর্মঘট শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবারও (৯ জুলাই) স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলছে এই ধর্মঘট। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন কর্মচারীরা।

জামালপুর শহরের বকুলতলাস্থ প্রধান ডাকঘরের সামনে জেলার সকল শাখার ডাকঘর কর্মচারীরা ব্যানার হাতে জড়ো হয়ে এই ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম শাহীন, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আশরাফ ফারুকী আজিজ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বিপুল মিয়া, সুজন মিয়া, শাখা পোস্ট মাস্টার ফরহাদ হোসেন, ফয়জুর রহমান, আনোয়ার সাহিদ, সুলতান মাহমুদ, আকছেন আলী, সানজিদা আক্তার ডলি, ইয়াসমিন আক্তার, পোস্টম্যান মো. মধু মিয়া, মো. জিয়াউল হক, রানার মো. সাফায়াত খান প্রমুখ।

​আন্দোলনরত কর্মচারীরা তাদের অধিকার আদায়ে মূলত দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছেন। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি এবং ​শাখা ডাকঘরে কর্মরত সকল কর্মচারীকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান।

​এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচিটি যৌথভাবে আহ্বান ও পরিচালনা করছে বেশ কয়েকটি ডাক কর্মচারী সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে, ​বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন, ডাকঘর কর্মচারী সমিতি, ​বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।

আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা অত্যন্ত স্বল্প বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের বেতন মোটে ৪১০০ টাকা। এরমধ্যে ৫০০ টাকা কর্তন করা হয়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির বাজারে এই সামান্য বেতনে সংসার চালানো খুবই কঠিন। অথচ, বিভাগীয় পর্যায়ে বেতনকাঠামো অনেক বেশি এবং তাদের ভাতাও বেশি। এক্ষেত্রে সমান শ্রম দিয়েও আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি দিনের পর দিন।

তারা আরও বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ ও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *