টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ৪১ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত; ঝুঁকিপূর্ণদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে মাইকিং করে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা, জরুরি সেবা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড়ধসপ্রবণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি ও লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে। অতীতের ভয়াবহ পাহাড়ধসে এসব এলাকার অনেক বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঝুঁকির কথা জানা সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ঢাল ও পাহাড়ের পাদদেশে এখনও প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এসব এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা মো. সবুর মিয়া বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাব।”

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঢাল বা পাদদেশে অবস্থান না করে ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানুষের জীবন রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *